জেলা আ.লীগ সম্পাদক মুজিবের মৎস্যঘেরে হামলা লুটপাট, গুলিবর্ষণ

EKATTOR24.NETEKATTOR24.NET
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  10:08 PM, 30 April 2021

অপহৃত-১
জেলা আ.লীগ সম্পাদক মুজিবের মৎস্যঘেরে হামলা লুটপাট, গুলিবর্ষণ

 

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি।।

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার চিংড়িজোন রামপুর মৌজায় ৫০০ একর আয়তনের একটি মৎস্যঘেরে হামলা ও লুটতরাজ চালিয়েছে ডাকাতদল। ওইসময় ৩০-৩৫জনের ডাকাতদল শুরুতে ঘেরটিতে হানা দিয়ে অন্ততপক্ষে ৪০ থেকে ৫০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে।

এরপর ঘেরটির সহকারি ম্যানেজার এবং কর্মচারীদের অস্ত্রের মুখে জিন্মি করে অফিস কক্ষের আলমিরা থেকে মাছ বিক্রির নগদ পাঁচ লাখ টাকা এবং ঘেরের হিমাগারে রক্ষিত প্রায় ৫ লাখ টাকার মাছ ও দুইটি মোটর সাইকেল লুটে নিয়ে গেছে। ঘটনার সময় ডাকাতদলের সদস্যরা ঘেরটির সহকারি ম্যানেজার মিন্টু চৌধুরীকে অপহরণ করেছে।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক একটার দিকে উপজেলার চিংড়িজোন রামপুর মৌজার চোয়ারফাঁিড়স্থ উত্তর এমএলঘোনায় ঘটেছে এ ঘটনা।

৩০-৩৫জনের অস্ত্রধারী ডাকাতদল ঘেরটির মাছসহ মালামাল লুটের উদ্দেশ্যে এ হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছেন ঘেরটির পরিচালক চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিম।
ঘেরটির পরিচালক ও সুরাজপুর-মানিকপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিম বলেন, পাঁচবছর আগে কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, অ্যাডভোকেট মুমিনুর রহমান, চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী, মোয়াজ্জেম হোসেন শাওনসহ আমরা রামপুর মৌজার ৫০০ একর (প্রায় ১২শত কানি) আয়তনের উত্তর এমএল ঘোনাটি ইজারা নিই। আমাদের সঙ্গে জমি মালিকপক্ষের অংশিদার তৌফিকুল ইসলামও আছেন। ইজারা নেয়ার পর থেকে আমরা ঘেরটিতে বিপুল টাকা বিনিয়োগ করে মৎস্য চাষ করে আসছি।

ইউপি চেয়ারম্যান আজিমুল হক দাবি করেন, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক একটার দিকে অতর্কিত ৩০-৩৫জনের অস্ত্রধারী ডাকাতদল মৎস্য ঘেরে হানা দেয়। ওইসময় ডাকাতরা কমপক্ষে ৪০-৫০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। এরপর ঘেরের অফিস কক্ষে ঢুকে সহকারি ম্যানেজার ও কর্মচারীদের অস্ত্রের মুখে জিন্মি করে আলমিরা থেকে মাছ বিক্রির নগদ ৫ লাখ টাকা এবং প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মাছ ও দুইটি মোটর সাইকেল নিয়ে যায়।

ঘটনার সময় ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে ঘেরটির সহকারি ম্যানেজার মিন্টু চৌধুরীকে অপহরণ করেছে। অপহৃতের গ্রামের বাড়ি লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের মল্লিক চোবাহানপাড়া গ্রামে। তিনি ওই এলাকার আবদুর রহমানের ছেলে। আমরা এখনো (শুক্রবার বিকাল পাঁচটা নগাদ) তাঁর খোঁজ পাইনি।

ঘেরটির জমির মালিকপক্ষের অংশিদার এবং পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম বলেন, মৎস্যঘেরে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় নেতৃত্ব দিয়েছেন চকরিয়া উপজেলার সাহারবিলের কোরালখালীর আলোচিত নবী হোছাইন প্রকাশ নবী চৌধুরী। তাঁর নেতৃত্বে ৩০-৩৫ জনের অস্ত্রধারী ডাকাতদল ঘেরটি দখলে নিতে গোলাগুলি করেছে। ওইসময় ঘেরের কর্মচারীরা নবী হোছাইন ও আবু তৈয়বকে লাইটের আলোতে দেখেছে।

তিনি বলেন, ডাকাতদলের তা-বের ঘটনাটি রাতেই চকরিয়া থানার ওসিকে জানাই। এরপর তাঁর নির্দেশে থানার এসআই মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে পুলিশের একটিদল ঘটনাস্থলে পৌঁছলেও ততক্ষনে ডাকাতদল মাছসহ মালামাল নিয়ে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এব্যাপারে আমাদের পক্ষ থেকে থানায় মামলা রের্কড করার প্রস্তুতি চলছে।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাকের মোহাম¥দ যুবায়ের বলেন, রামপুর চিংড়িজোনের মৎস্যঘেরে হামলা ও লুটপাটের ঘটনাটি রাতেই আমি জেনেছি। তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে পুলিশের একটিদল পাঠাই, তবে ওইসময় ঘটনাস্থলে কাউকে পাইনি পুলিশ। ওসি বলেন, ঘেরটির ইজারা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ঘটনার সুত্রপাত বলে মনে হচ্ছে। তারপরও সংগঠিত ঘটনার প্রেক্ষিতে লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন :