বিয়ের ২৩দিনের মাথায় প্রাণ কেড়ে নিল ছাত্রলীগ নেতা সোহেল রানার

EKATTOR24.NETEKATTOR24.NET
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  09:09 PM, 29 November 2020

নিজস্ব প্রতিবেদক, চকরিয়া (কক্সবাজার) ::
বিয়ের মাত্র ২৩দিনের মাথায় ছাত্রলীগ নেতা সোহেল রানার প্রাণ কেড়েনিল নুর হোসন, আলী হোসেন বাহিনীর সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। ২৯ নভেম্বর রাত সাড়ে ১২টার সময় এই হৃদয় বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভা ৪নং ওয়ার্ডের ভরামুহুরী হাজী পাড়ায়।

সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. সোহেল রানা (২৭) কে নির্মমভাবে লোহার রড় ও গাছের বাটাম দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে। ওই সময় তিনি বাচাঁর আকুতি জানালেও তা শুনেনি লাঠিয়াল বাহিনী। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর ঘটনাস্থলে থেকে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। তাকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষনা করেন। ছাত্রলীগ নেতা সোহেল রানা চকরিয়া পৌরসভার পালাকাটা গ্রামের আবদুর রকিমের ছেলে।
পুলিশ রাতে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সন্দেহে আবদুল মান্নান (৩৪) নামের এক যুবককে আটক করেছে। তিনি একই এলাকার কবির আহমদের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানান, শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে চকরিয়া পৌরসভার ৪নম্বর ওয়ার্ডের ভরামুহুরী হাজী পাড়ার নুরুল আলম, নুর হোসেন, আলী হোসেন, আবুল বশরের নেতৃত্বে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা নিহত সোহেল রানার পিতার ক্রয়কৃত একটি জমি দখলের চেষ্ঠা করা হচ্ছে এমন সংবাদ শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলে গেলে আগে থেকে ওৎপেতে থাকা সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা পিছন থেকে রড, কাঠের বাটাম দিয়ে এলোপাতাড়ি মারতে থাকে। এক পর্যায়ে ছাত্রলীগ নেতা সোহেল মাটিতে লুঠিয়ে পড়লে পিটিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে।

নিহত ছাত্রলীগ নেতা সোহেলের বাবা আবদুর রকিম জানান, ভরামুহুরী হাজি পাড়ায় তাদের ক্রয়কৃত একটি জায়গা রয়েছে। সেই জায়গা দখলে নেওয়ার চেষ্টা চালায় ভূমিদস্যু-সন্ত্রাসীরা। এই খবর পেয়ে তার ছেলেসহ আরো কয়েকজন সেখানে ছুটে যায়। সেখান থেকে ফেরার পথে একা পেয়ে হাজি পাড়ার নুরুল আলম ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা সোহেলকে পেছন থেকে হাতুড়ি, গাছের বাটাম দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতে ঘটনাস্থলেই পড়ে থাকে সোহেলের নিথর দেহ। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। উল্লেখ্য যে, নিহত ছাত্রলীগ নেতা মো: সোহেল রানা চলতি মাসের ৫ নভেম্বর ২০২০ তারিখে বিবাহ করেন।

চকরিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আশরাফ হোসেন বলেন, নিহত সোহেলের মরদেহ ময়না তদন্ত করা হয়েছে। ময়না তদস্ত শেষে নিহত ছাত্রলীগ নেতার মো. সোহেল রানার লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে ।
নিহত ছাত্রলীগ নেতার পিতা আবদুর রকিম জানান, জানাযা শেষে আমাদের পারিবরিক কবরস্থনে ছেলেকে দাফন করা হয়েছে। জানাযার নামাজে শোকাহত মানুষের ঢল নামে। তিনি আরো বলেন, আমার ছেলেকে যারা নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে আমি তাদের কঠিন শাস্তি চাই।

ঘটনার বিষয়ে জানার সাথে সাথে পুলিশ ফোর্স নিয়ে চকরিয়া সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) তৌফিকুল আলম তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সাথে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। ইতিমধ্যে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদের আটকের জন্য পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে রয়েছে। আশা করি শীঘ্রই অপরাধীদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হবে পুলিশ

 

আপনার মতামত লিখুন :