এবার ট্যুরিষ্ট পুলিশের জমি অধিগ্রহণে অনিয়মে জড়িয়েছে ‘পিবিআই সিন্ডিকেট’

adminadmin
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  10:39 AM, 25 November 2020

বার্তা পরিবেশক
কক্সবাজার শহরের কলাতলী বাইপাস সড়কে পিবিআই’র কার্যালয়ের জন্য জমি অধিগ্রহনে জড়িত সিন্ডিকেটটি আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। পিবিআই’র জমি অধিগ্রহনের জটিলতা দূর না হতেই সিন্ডিকেটটি আবার পিবিআই’র জমির পাশেই বিরোধপূর্ণ জমিতে ট্যুরিস্ট পুলিশের কার্যালয়ের জন্য অধিগ্রহনের চেষ্টা করছে। এতে দখল, হামলা, মামলা, অস্ত্রের মহড়াসহ বিভিন্ন অপরাধ যেমন ঘটছে তেমনি দখল পাকাপোক্ত করতে সাধারণ মানুষের আশ্রয়ও কেড়ে নেয়া হচ্ছে জোর করে। ভুক্তভোগী মাজেদা বেগম গং ও সেলিম গং এই অভিযোগ করেছেন। ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জনৈক মোহাম্মদ ইদ্রিছ, নুরুল হক ও নানা অপকর্মের হোতা বেলায়েতসহ তিনজনের সিন্ডিকেট অসাধু লোকজনের মাধ্যমে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা মৌজার ২০৩০৭, ২০৩০৬, ২০১৬৩ ও ১৭০৫০ দাগের একএকর জমি অধিগ্রহন করার সাথে জড়িয়ে পড়ে।

চক্রটি নানা জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে পিবিআই জমি অধিগ্রহন প্রকল্প থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এ ঘটনায় একাধিক ভূক্তভোগী সরকারের বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ দায়ের করেছে। এক ভূক্তভোগী দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে আদালতে মামলাও দায়ের করেছে। এ অবস্থায় বড় ধরণের ঘাপলা থাকায় জমি অধিগ্রহন করলেও পিবিআই এর ঘটনা এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। বর্তমানে ইদ্রিছ, নুরুল হক ও বেলায়েত সিন্ডিকেট পুলিশের এক পরিদর্শকের মাধ্যমে আবারও বিরোধপূর্ণ একটি জমি ট্যুরিষ্ট পুলিশের জমি অধিগ্রহন প্রকল্পের আওতায় আনতে মাঠে নেমেছে।

ওই পুলিশ পরিদর্শক পিবিআইতে থাকাকালীন পিবিআই জমি অধিগ্রহন কেলেঙ্কারির জন্ম দিয়েছেন। তিনি আবার ট্যুরিস্ট পুলিশে গিয়ে সেখানেও বিরোধপূর্ন জমি নিয়ে তৎপরতা চালাচ্ছেন। তারা ইতিমধ্যেই দফায় দফায় বৈঠক করছে বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশ হয়েছে। সিন্ডিকেটের বৈঠকে ওই পুলিশ পরির্দশকও উপস্থিত থাকেন। কক্সবাজারের সকল পুলিশ সদস্য বদলি হলেও আর্শ্চয্যজনকভাবে ওই পুলিশ পরিদর্শক বদলি ঠেকিয়ে বহাল তবিয়তে রয়েছেন।

সূত্র জানায়, সিন্ডিকেটের সদস্য ইদ্রিছ একজন চিহ্নিত ভূমিদস্যু। তিনি জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে পাহাড়ের পর পাহাড় কেটে শেষ করছেন আবার সাধারণ মানুষের জমিজমাও দখল করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। আরেক সদস্য বেলায়েত একজন চিহ্নিত চাঁদাবাজ, প্রতারক ও দালাল। তিনি থানা, ভূমি অফিস এবং জেলা প্রশাসনের সোর্স পরিচয়ে দালালি করেন। জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে হয়রানী করে লাখ লাখ টাকার মালিক হয়েছেন শূন্য থেকে। সিন্ডিকেটের তিন সদস্য মিলে পিবিআই’র জমি অধিগ্রহনে বড় কেলেঙ্কোরির জন্ম দিয়েছেন।

যা এখনো শেষ হয়নি। পিবিআই’র জমি অধিগ্রহন থেকে টাকা নিয়ে তারা আবার দীর্ঘদিনের দখলদারকে গোপন করে আপিল মামলা করে নথি গোপনের মাধ্যমে খতিয়ান বাতিল করেন। এখন উক্ত সিন্ডিকেট সদস্যরা বিরোধপূর্ণ জমির আপিল মামলা করে খতিয়ান বাতিল ও নানা জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে কাগজ সৃজন এবং দফায় দফায় মারধর ও হামলা চালিয়ে সাধারণ মানুষের জমি দখল করে তাতে সাইনর্বোড টাঙ্গিয়ে দিচ্ছেন। এসব ঘটনায় পক্ষে-বিপক্ষে হামলা ও মামলা হয়েছে। এ ধরণের একটি বিরোধপূর্ণ জমি সিন্ডিকেটটি ট্যুরিস্ট পুলিশের জমি অধিগ্রহন প্রকল্পে যুক্ত করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতে তৎপরতা চালাচ্ছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের উচ্চ পর্যায়ে সিন্ডিকেট সদস্যরা ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী মাজেদা বেগম জানান, বেলায়েতসহ একটি দখলদার সিন্ডিকেট ট্যুরিস্ট পুলিশকে অধিগ্রহনে উক্ত জমি দেয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। যার কারণে বেলায়েতের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ চক্রটি তার নিজেরসহ বিভিন্ন জনের জমির কিছু অংশে জোরপূর্বক দখল করে তাতে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দিয়েছেন। বাকি জমিও দখল করতে দফায় দফায় সন্ত্রাসী নিয়ে অস্ত্রের মহড়া দিচ্ছে।
ভুক্তভোগী সেলিম রেজা গংয়ের পক্ষে সেলিম রেজা বলেন, ট্যুরিস্ট পুলিশকে উক্ত জমি অধিগ্রহনে দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতে সিন্ডিকেটটি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা ইতিমধ্যেই ট্যুরিস্ট পুলিশের উচ্চ পর্যায়ে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করছেন বলে তিনি জানান। তিনি দাবী করেন ট্যুরিস্ট পুলিশ উক্ত বিরোধপূর্ণ জমি নির্বাচন না করলে দখল, হামলা, মামলা এক দিনেই বন্ধ হয়ে যাবে। ভুক্তভোগীরা উক্ত সিন্ডিকেটের খপ্পর থেকে রক্ষা পেতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন :