চকরিয়ায় মার্কেটের মালিকানা ও আপন সহোদরের মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে নালিশ ক্ষতিগ্রস্ত সহোদরের

Mohammad UllahMohammad Ullah
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  10:28 AM, 18 July 2021
চকরিয়ায় মার্কেটের মালিকানা ও আপন সহোদরের মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে নালিশ ক্ষতিগ্রস্ত সহোদরের

চকরিয়ায় মার্কেটের মালিকানা ও আপন সহোদরের মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে নালিশ ক্ষতিগ্রস্ত সহোদরের

চকরিয়া প্রতিনিধি:
চকরিয়া পৌর এলাকায় রুপজাহান প্লাজা মার্কেটের ছোট-বড় ৬টি দোকানের মালিকানা নিয়ে এবং আপন বড় ভাইয়ের মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ সহকারে সংবাদ সম্মেলন করে নালিশ দিলেন ক্ষতিগ্রস্ত সহোদর মোক্তার হোসেন। ১৭ জুলাই (শনিবার) সন্ধ্যা ৭টায় লিখিত বক্তব্যে জানিয়েছেন, তার বড় ভাই আনোয়ার শপিংয়ের মালিক আনোয়ার হোসেন ও দেলোয়ার হোসেন মিলে দীর্ঘকাল ধরে শাররীকি, মানষিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগতভাবে হয়রাণী করে আসছেন। দুইভাইয়ের ভূমিদস্যুতার কারণে তিনি এক প্রকার অসহায় হয়ে পড়েছে। দুই ভাইয়ের সীমাহীন অত্যাচার, জুলুম নির্যাতনের চিত্র আত্বীয় স্বজনসহ পৌরবাসী ও সমস্ত প্রশাসনিক দপ্তর অবগত রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে মোক্তার হোসেন বলেন, তার বড় ভাই আনোয়ার হোসেন ও দেলোয়ার হোসেন পৈত্রিক প্রাপ্ত ওয়ারিশি জমি থেকে তাকে বঞ্চিত করতে সকল প্রকার ষড়যন্ত্র করেছেন। যার কারণে অনেকটা ওয়ারিশি সকল সম্পত্তির ন্যায্য অংশ ভোগ করতে পারছেননা।
তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, চকরিয়া পৌরসভার চিরিংগা মৌজার বিএস খতিয়ান নং ৮৪, নামজারী জমাভাগ খতিয়ান নং ১২৩৩ এর অনুকূলে বিএস দাগ নং ৩২৮ এর ১৯ কড়া জমি জনৈক ইদ্রিস মিয়ার সহিত বিগত ২৮ এপ্রিল’২০০১ সনে আন-রেজিষ্ট্রিযুক্ত চুক্তিতে ডেভেলপার বিষয়ক চুক্তি হয়। চুক্তিনামার অনুবলে চকরিয়া পৌরসভার হোল্ডিন নং ১১১৬/১০৯৯ এর অনুমোদন পূর্বক নগদ অর্থ ও স্বত্ত্বে সম্পূর্ণ ব্যয়ে ২০০৩ সনে দ্বিতল বিশিষ্ট রূপজাহান প্লাজা (মার্কেট) কাজ সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ২০১৩সনের ১৮ ফেব্রুয়ারী তার নামে রেজি: দলিল নং ১২২৫ সৃজন পূর্বক এর অনুবলে ০.০৩১৭শতক (সাড়ে ৯কড়া) উক্ত দাগের উত্তরাংশে প্রাপ্ত হয়ে ভোগ দখলে নিয়ে ৪টি বড় দোকান ঘর ও ২টি ছোট দোকানসহ মোট ৬টি দোকানের মালিক হন এবং উক্ত দোকানঘর সমূহ ভাড়াটিয়া নিয়োগের মাধ্যমে লাগিয়ত দিয়ে শান্তিপূর্ণ ভোগ দখলে থাকেন। একইভাবে অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন বিএস ৩২৮ দাগের আন্দরের দক্ষিণাংশে জমির প্রকৃত মালিক তমন খাতুনের কাছ থেকে নামজারী জমাভাগ খতিয়ান নং ৬৩৭ এর ১৬ কড়া জমি নিয়ে দোকানঘর নির্মিত করে শান্তিপূর্ণ ভোগ দখলে রয়েছেন। কিন্তু অভিযুক্ত বড় ভাই আনোয়ার হোসেন ও দেলোয়ার হোসেন দূর্লোভের বশবর্তি হয়ে জাল-জালিয়তির মাধ্যমে ১০০ ও ৫০ টাকার স্ট্যাম্পে আমার মালিকানাধীন দোকানঘরের মালিক সাজিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে আমার ভাড়াটিয়াদের হুমকি ধমকি দিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় আমার দোকানঘর সমূহ জবর দখলের পায়তারা চালিয়ে আসছে। এসব বিষয় নিয়ে আমি বাদী হয়ে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার, চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, চকরিয়া পৌরসভার মেয়র ও থানার অফিসার ইনচার্জ এবং সর্বশেষ চকরিয়া-পেকুয়া আসনের মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ¦ জাফর আলম বরাবরে লিখিত অভিযোগসহ একাধিকবার বিচার কার্য হয়। কিন্তু কোন শালিস বিচারে সঠিকভাবে কোন বৈধ কাগজপত্রও উপস্থাপন করতে পারেনা এবং শালিস বিচারও মানেনা।

অভিযুক্ত দুই সহোদরের উপস্থিতিতে স্থানীয় শালিসকারদের মাধ্যমে বেশ কয়েকবার শালিসী একেরারনামাও তৈরী হয়। দু’পক্ষের শালিসকারদের মতামতে আমার দখল ও মালিকানা বৈধ হিসাবে প্রমাণিত হয়। এরপরও তা উপেক্ষা করে দীর্ঘকালের জবর দখল চেষ্টা অব্যাহত রাখায় সর্বশেষ গত ১৮ জুন’২১ইং সকাল ১০ ঘটিকায় আমার দোকান ঘর সমূহে নতুন করে জোরপূর্বক ভাড়াটিয়া নিয়োগ দেয়ার চেষ্টা করে। তা নিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। একইভাবে গত ১৬জুলাই’২১ইং রাতে জবর দখলের অপচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানহানীকর মিথ্যাচার ছড়িয়েছে। যার সাথে আমার বিন্দুমাত্র সম্পৃক্ততা নেই। মোক্তার হোসেন বলেন, আমি এখনো আমার বড় ভাইদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে বলছি, অন্যায় ও অবৈধ পথ থেকে সরে না আসলে তাদের সকল অপকর্ম জনসম্মূখে প্রকাশ করতে বাধ্য হবো। পরিশেষে আমার ভাড়াটিয়া দোকানদারকে কোন ধরণের হয়রাণী না করার এবং প্রশাসন, আত্বীয় স্বজনসহ প্রিয় চকরিয়াবাসীকে ভূমিদস্য দখলবাজ বড় ভাইদের মিথ্যাচার নিয়ে কোনরূপ বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য আহবান জানাচ্ছি।

আপনার মতামত লিখুন :