চকরিয়ায় বসতভিটা থেকে উচ্ছেদে নারীকে ধর্ষণের চেষ্ঠা: শাররীক নির্যাতন

।। একাত্তর২৪.নেট।।।। একাত্তর২৪.নেট।।
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  11:48 PM, 21 November 2020

।।এম জিয়াবুল হক।।   

কক্সবাজারের  চকরিয়া উপজেলার ফাসিয়াখালী ইউনিয়নের উচিতারবিলে গরীব মানুষের বাড়িভিটা দখলে মেতে উঠেছে বহিরাগত প্রভাবশালী দখলবাজ চক্র। ইতোমধ্যে ওই চক্রের অব্যাহত নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে বাড়িভিটা ছেঁেড় পালিয়ে গেছে অনেক পরিবার। যারা এখনো বসবাস করছেন তাদেরকে উচ্ছেদে চালানো হচ্ছে দফায় দফায় হামলা। দেওয়া হচ্ছে প্রাননাশের হুমকি।

বসতভিটা দখলে বাড়িতে ঢুকে হামলা চালিয়ে আমেনা বেগম (২৪) নামের এক নারীকে ধর্ষণের চেষ্ঠা করেছে দখলবাজচক্রের হোতা আমিনুল ইসলাম প্রকাশ লালু। ভিকটিম আমেনা বেগম উচিতারবিল এলাকার আবদুল মতলবের স্ত্রী। স্বামী মতলব দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়া রয়েছেন। এই সুযোগে সম্প্রতিসময়ে দিনদুপুরে বাড়িতে ঢুকে আমেনা বেগমকে ধর্ষণের চেষ্ঠা করেন লালু।

ওইদিন কোন  মতে ইজ্জত রক্ষা করতে পারলেও ঘটনাটি প্রতিবেশি লোকজনকে বলে দেয়ার কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে লালু এবং তাঁর সহযোগিরা বাড়িতে ঢুকে ওই নারীকে এলোপাহাড়ি পিটিয়ে সর্বশরীর থেতঁলে দিয়েছে। আক্রান্ত ভিকটিম আমেনা বেগম দাবি করেন, বসতিভিটা থেকে উচ্ছেদে হামলা পরবর্তী ধর্ষণচেষ্ঠা এবং পরে বাড়িতে ঢুকে শাররীক নির্যাতনের ঘটনায় চকরিয়া থানায় অভিযোগ করতে গিয়েছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে অভিযুক্ত লালু মোঠোফোনে হুমকি দেন মামলা দিলে পরিণতি ভয়াবহ হবে। সেই ভয়ে মামলা না দিয়ে থানা থেকে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হন আমেনা বেগম। শনিবার চকরিয়া প্রেসক্লাবে এসে ভিকটিম আমেনা বেগম সাংবাদিকদের কাছে এই ধরণের অভিযোগ বলেছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযুক্ত আমিনুল ইসলাম প্রকাশ লালুর বাড়ি চকরিয়া পৌরসভার পালাকাটাস্থ মাতব্বর পাড়া গ্রামে। তাঁর নেতৃত্বে ২০-২৫জনের একটি চক্র বেশ কয়েকবছর ধরে পাশের ফাসিয়াখালী ইউনিয়নের উচিতারবিলে সরকারি পাহাড়ি জায়গা এবং ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জায়গা জবরদখলে জড়িত রয়েছে। ইতোমধ্যে অভিযুক্ত চক্রটি পেশিশক্তির দাপট দেখিয়ে ওই এলাকার অন্তত শতাধিক পরিবারের জায়গা অবৈধভাবে দখলে নিয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, ওই চক্রের অব্যাহত নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে বিগত সময়ে ওই এলাকার বাড়িভিটা ছেঁেড় পালিয়ে গেছে অনেক পরিবার। যারা এখনো বসবাস করছেন তাদেরকে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদে চালানো হচ্ছে দফায় দফায় হামলা।

দেওয়া হচ্ছে প্রাননাশের হুমকি। নির্যাতিত নারী আমেনা বেগমের মতো এখনো উচ্ছেদ হুমকি আছে ১৫-২০টি পরিবার। তারমধ্যে নুরুল আবছার প্রকাশ বাচ্ছু নামের এক বাসিন্দার বাড়িভিটা দখলে নিতে হামলা করলে তাঁর প্রতিবাদ করেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনার জেরে বাড়িতে ঢুকে হামলা চালিয়ে নুরুল আবছারের স্ত্রী ছালেহা বেগমকেও (২৮) শাররীক নির্যাতন করেন অভিযুক্ত চক্রের সদস্যরা।

চলতি ২০২০ সালের ১২ মার্চ বাড়িতে ঢুকে হামলার ঘটনায় নুরুল আবছারের স্ত্রী ছালেহা বেগমের গর্ভের সন্তানও নষ্ট হয়ে যায়। এ ঘটনায় আক্রান্ত ভিকটিম ছালেহা বেগম বাদি হয়ে গত ২ নভেম্বর চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি সিআর মামলা (নং ৯৫৯) করেছেন। মামলার এজাহারে আমিনুল ইসলাম লালু ছাড়াও সহযোগি আরো তিনজনকে আসামি করেছেন। মামলাটি আদালতের নির্দেশে তদন্ত করছেন চকরিয়া থানা পুলিশ।

এদিকে বাড়িতে ঢুকে গৃহবধু ছালেহা বেগমকে মারধরের ঘটনায় আদালতে মামলা দেয়ায় আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন আসামিপক্ষের লোকজন। এরই জেরধরে সর্বশেষ ১৯নভেম্বর সকালে উচিতারবিল এসে গৃহকর্তা নুরুল আবচারের উপর হামলা চালায় অভিযুক্তরা। ওইসময় আবছারকে বেধড়ক পিটিয়ে নগদ ২০ হাজার টাকা ও একটি মোটর সাইকেল লুটে নিয়ে যায় হামলাকারীরা।

এ ঘটনায় শুক্রবার চকরিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আক্রান্ত গৃহকর্তা নুরুল আবছার। এজাহারে আমিনুল ইসলাম লালু ছাড়াও মোট চারজনকে আসামি করা হয়েছে। থানার ওসি এজাহারটি তদন্তের জন্য এসআই মুজিবুর রহমানকে দায়িত্ব দিয়েছেন। হামলার ঘটনায় চকরিয়া থানায় অভিযোগ দেয়ার ঘটনাটি জানতে পেরে শনিবার সকাল থেকে উচিতারবিল এলাকায় পাহারা বসিয়েছে অভিযুক্ত দখলবাজ লালু ও তাঁর সহযোগিরা।

এ অবস্থায় নিরাপদে বাড়ি ফেরা নিয়ে চরম আশঙ্কায় রয়েছেন নুরুল আবছার ও আগের ঘটনার ভিকটিম আমেনা বেগম। পরে তাঁরা গতকাল দুপুরে থানায় গিয়ে ওসি শাকের মুহাম্মদ জোবায়েরকে ঘটনাটি জানান। এরপর ওসির নির্দেশে এসআই মুজিবুর রহমানের সঙ্গিয় পুলিশদল তাদেরকে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেন। এরপরও পরবর্তী হামলা এবং বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ আতঙ্কে ভুগছেন নুরুল আবছার ও আমেনা বেগমসহ বসবাসরত পরিবার গুলো।

বিষয়টি প্রসঙ্গে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাকের মুহাম্মদ জোবায়ের বলেন, নারীকে শাররীক নির্যাতনের ঘটনাটি আমি চকরিয়া থানায় দায়িত্ব নেয়ার আগে ঘটেছে। তবে প্রতিবেশি নুরুল আবছারকে মারধর ও মোটর সাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনায় এজাহার নেওয়া হয়েছে। এটির ব্যাপারে তদন্তপুর্বক ব্যবস্থা নিতে থানার এসআই মুজিবুর রহমানকে দায়িত্ব দিয়েছি। ওসি বলেন, নারী নির্যাতনের ঘটনাটি আমার সময়ের না হলেও লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই মামলা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন :