ধর্ষণ মামলায় ছাত্র অধিকার পরিষদ নেতা নাজমুল রিমান্ডে

।। একাত্তর২৪.নেট।।।। একাত্তর২৪.নেট।।
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  03:33 PM, 05 November 2020

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হাসান সোহাগের (২৮) তিন দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকা মহানগর হাকিম কনক বড়ুয়া এ আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, গতকাল (বুধবার) তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছিল। আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে।

বুধবার বিকেলে পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজার এলাকা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ থেকে স্নাতকোত্তর করা সোহাগকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান তিনি।

এর আগে মামলাটিতে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাইফুল ইসলাম ও সংগঠনটি ঢাবি শাখার সহসভাপতি মো. নাজমুল হুদাকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। বর্তমানে তারা কারাগারে আছেন।

এদিকে টানা অনশন-অবস্থানে অসুস্থ হয়ে ওই ছাত্রী গত ১৯ অক্টোবর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। কিছুটা সুস্থ হওয়ায় বৃহস্পতিবার বিকালে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

আপাতত অবস্থান কর্মসূচি শেষ করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নূরসহ বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে আবারও নতুন কর্মসূচিতে যাবেন।

ওই ছাত্রী বলেন, আমার মামলার প্রায় দেড় মাস হয়ে গেছে। বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করার পরেও সকল আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। আজকে আমি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছি দুটি কথা বলতে। রাজু ভাস্কর্যে আমার যে কর্মসূচি ছিল সেটা সমাপ্ত ঘোষণা করছি। তবে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হাসান আল মামুনসহ বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করা হলে না পরবর্তীতে আমি নতুন কর্মসূচিতে যাব।

প্রসঙ্গত, ধর্ষণ ও তাতে সহযোগিতার অভিযোগ এনে গত ২১ সেপ্টেম্বর লালবাগ থানায় ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, নাজমুল হাসান সোহাগ ও নুরুল হক নূরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে একটা মামলা করেন ওই ছাত্রী।

পরদিন ধর্ষণ ও সামাজিক যোগাযোগে মাধ্যমে চরিত্র হননের অভিযোগ এনে রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আরেকটি মামলা করেন তিনি। এই মামলায়ও ওই ছয়জনকে আসামি করা হয়, তবে প্রধান আসামি করা হয় নাজমুল হাসান সোহাগকে।
মামলার অপর তিন আসামি হলেন- বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাইফুল ইসলাম (২৮), সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি মো. নাজমুল হুদা ও কর্মী আব্দুল্লাহহিল বাকী (২৩)।

ওই ছাত্রীর অভিযোগ, একই বিভাগের শিক্ষার্থী এবং ছাত্র অধিকার পরিষদের কর্মী হওয়ায় এই পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুনের সঙ্গে তার ‘প্রেমের সম্পর্ক’ হয়। সেই সম্পর্কের জের ধরে ৩ জানুয়ারি লালবাগের বাসায় নিয়ে তাকে ‘ধর্ষণ করেন’ মামুন। তখন সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হাসান সোহাগ তার পাশে দাঁড়ান। চিকিৎসায় সহায়তা করার পর মামুনকে খুঁজে পেতে সাহায্যের কথা বলে চাঁদপুরে নিয়ে ফেরার পথে নাজমুল সোহাগও লঞ্চের মধ্যে তাকে ‘ধর্ষণ করেন’। পরে ঘটনার প্রতিকার চেয়ে তিনি নূরসহ তাদের অপর সহকর্মীদের কাছে গেলে প্রথমে সহযোগিতার আশ্বাস দিলেও পরে ‘বাড়াবাড়ি করলে চরিত্রহননের’ ভয় দেখান।

আপনার মতামত লিখুন :